আইন-আদালত

কারাগারে থেকে কীভাবে আগুন দিলেন সাবেক মেজর সাদিক

  নিজস্ব প্রতিনিধি ১৩ আগস্ট ২০২৬ , ২:০২:১৪

রাজধানীর ভাটারায় গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় কারাগারে থাকা সাবেক মেজর মো. সাদিকুল হককে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। ঘটনার সময় সাদিকুল কারাগারে ছিলেন, আসামিপক্ষের এমন বক্তব্যের পর কারাগারে থেকে কীভাবে সাবেক মেজর সাদিক গাড়িতে আগুন দিলেন তার ব্যাখ্যা চেয়েছেন আদালত।

এ বিষয়ে ভাটারা থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. চাঁদ আলীকে আগামী ১৬ আগস্টের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১০ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম এ আদেশ দেন। একই দিন মামলাটির পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামাল হোসেন।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর ভাটারা থানার বিটুমিন গেটের সামনে একটি প্রাইভেটকারে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাদিকুলকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য গত ৭ আগস্ট আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই চাঁদ আলী।

পুলিশের আবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে গাড়িটিতে আগুন দেওয়া হয়। তদন্তে সাদিকুলের ওই ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে শুনানিতে সাদিকুলের আইনজীবী আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, অগ্নিসংযোগের দিন তার মক্কেল কারাগারে ছিলেন। ফলে কারাগারে অবস্থান করেও তিনি কীভাবে ওই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এরপরই পুলিশের কাছে ব্যাখ্যা চান আদালত

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ১১ নভেম্বর রাতে মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তি ভাটারা থানার বিটুমিন গেটের সামনে নিজের গাড়ি রেখে বাসায় চলে যান। কিছুক্ষণ পর গাড়িতে আগুন লাগার খবর পান তিনি। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরবর্তীতে সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১৩ নভেম্বরের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির বিষয়ে জানতে পারেন মনির হোসেন। এরপর গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন তিনি। মামলায় নির্দিষ্ট কারও নাম উল্লেখ না করে ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়।

সাদিকুল হকের বিষয়ে পুলিশ জানায়, তিনি এরই মধ্যে ভাটারা থানার আরেকটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

এর আগে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত সাদিকুলকে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর একটি সামরিক আদালত তিন মাসের কারাদণ্ড দেন। ওই রায়ের পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ভাটারা থানার আরেক মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। সেই থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

এখন গাড়ি পোড়ানোর ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাকে নতুন করে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার সময় তার কারাগারে থাকার বিষয়টি সামনে আসায় পুলিশের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়েছেন আদালত।

আরও খবর