টপ টেন

আমার কথা শোনো’ রুখে দাঁড়াও জনগণ’: সাতক্ষীরায় কালো কাপড়ে মৌন প্রতিবাদ

  জিয়াউল ইসলাম জিয়া,বিশেষ প্রতিনিধি ৪ মার্চ ২০২৬ , ১:৪১:৫৭

সকাল ১০টা। সাতক্ষীরা শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের প্রধান ফটক। প্রতিদিনের ব্যস্ততা ছাপিয়ে সেখানে তখন এক থমথমে নীরবতা। কারো মুখে কোনো স্লোগান নেই, নেই কোনো উচ্চবাচ্য। শুধু সবার কপালে আর মাথায় বাঁধা কালো কাপড়। হাতে ধরা ব্যানারে ফুটে উঠেছে সাম্প্রতিক সময়ের বিভীষিকা’খুন, ধর্ষণ আর অপহরণের প্রতিচ্ছবি। এই নীরবতাই যেন দিচ্ছিল এক জোরালো চিৎকার।

মঙ্গলবার, ৩ মার্চ সারাদেশে চলমান নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও বিচারহীনতার প্রতিবাদে এভাবেই সরব হয়ে ওঠে সাতক্ষীরা। মানবাধিকার সংগঠন ‘স্বদেশ’ এবং ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)’ ঢাকার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এই ‘মৌন প্রতিবাদ’ কর্মসূচি।

মৌন এই মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক ও মানবাধিকার কর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত। কর্মসূচিতে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া রোমহর্ষক ঘটনাগুলো সমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই অশুভ শক্তিকে রুখতে হলে সাধারণ মানুষের জাগরণ আজ সময়ের দাবি। ‘আমার কথা শোনো’ রুখে দাঁড়াও জনগণ’এই স্লোগানকে বুকে নিয়ে শতাধিক মানুষ এদিন রাজপথে দাঁড়িয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।

প্রতিবাদে একাত্মতা প্রকাশ করতে হাজির হয়েছিলেন সাতক্ষীরার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। উপস্থিত ছিলেন সিডো সংস্থার পরিচালক শ্যামল বিশ্বাস, মহিলা পরিষদের জেলা সম্পাদক জোৎস্না দত্ত, নারী নেত্রী আঞ্জুয়ারা মিলি, হাফিজা খাতুন, ক্রেসেন্ট পরিচালক আবু জাফর সিদ্দীকি, প্রিন্সিপাল তারেক আহমেদ, হেড সংস্থার পরিচালক লুইস রানা গাইন, সাংবাদিক বিপ্লব হোসেন এবং টিআইবি ও প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্যরা।

এছাড়াও আইনজীবী, সমাজকর্মী এবং বারসিকসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা কালো কাপড় বেঁধে এই প্রতিবাদে অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা কোনো বক্তৃতা না দিলেও ব্যানারে আর প্ল্যাকার্ডে তাঁদের দাবি ছিল স্পষ্ট। প্রতিটি ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয় এই প্রতিবাদী সমাবেশ থেকে।

বক্তারা মনে করেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতিই অপরাধীদের সাহস বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই এখনই সময় রুখে দাঁড়ানোর। অংশগ্রহণকারী সমাজকর্মীরা জানান, “শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের গেটে এই নীরব অবস্থান আসলে একটি বার্তাÑআমরা আর কোনো রক্তপাত বা লাঞ্ছনা দেখতে চাই না।”

আরও খবর