টপ টেন

ভেঙে পড়েছে সদরের মির্জানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা

  জিয়াউল ইসলাম জিয়া,বিশেষ প্রতিনিধি ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ , ১১:৫২:৫৯

সরকার যেখানে প্রাথমিক শিক্ষাকে দেশের মেরুদন্ড হিসেবে বিবেচনা করছে, সেখানে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৩নং মির্জানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে উঠেছে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মাসুদ মিয়ার বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতা, সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকা, শিক্ষার্থীদের প্রতি অসদাচরণ এবং সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার না করার অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

এসব কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে বলে দাবি তাদের। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ২৫ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টায় বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না। কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগ, তিনি প্রায়ই টিফিনের সময় বাড়ি গিয়ে দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকেন। প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় অন্য শিক্ষকদের মধ্যেও শৃঙ্খলার ঘাটতি দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এক শিক্ষিকা রেহেনা রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন বলেও জানান কয়েকজন অভিভাবক।

অভিযোগ রয়েছে, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় কিছু শিক্ষার্থীর প্রতি শারীরিক শাস্তি প্রয়োগ করা হয়। প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহির হোসেনকে মারধরের অভিযোগ তুলে তার পরিবার জানায়, সে এখন স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে। প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তাদের দাবি, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা ফ্লোর ম্যাট কেনার নির্দেশ দিলেও কয়েক মাসেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

বর্তমানে ২৯ জন শিশু মেঝেতে বসে ক্লাস করছে। টয়লেট ও পানির ব্যবস্থাও অস্বাস্থ্যকর বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিদ্যালয় সংস্কারের জন্য প্রায় দেড় লাখ টাকা বরাদ্দ এলেও দৃশ্যমান কোনো সংস্কারকাজ হয়নি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। বিভিন্ন দিবস পালনের বরাদ্দের ব্যবহারের ক্ষেত্রেও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

অভিভাবক নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, “আগে স্কুলে ভিড় ছিল, এখন মানুষ সন্তান পাঠাতে ভয় পায়।” রেহানা পারভীন বলেন, “সরকারি স্কুলে পড়েও আমার সন্তানকে একাধিক প্রাইভেট পড়াতে হয়, এটা কষ্টের।” এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মো. মাসুদ মিয়া প্রথমে কথা বলতে সম্মত হলেও পরে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি বিষয়টি শিক্ষা অফিসের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দেখবেন বলে জানান।

স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।

আরও খবর