আইন-আদালত

ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি হতে সক্রিয় খলিলুর রহমান

  নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ৮ জুলাই ২০২৬ , ১২:৪০:৩২

ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম খলিলুর রহমান বর্তমানে সংগঠনের সভাপতি পদ লাভের লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে সক্রিয় তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এবং কোম্পানী সেক্রেটারী অডিট ইউনিট প্রধান মো: রফিকুজ্জামান রফিকের মাধ্যমে তার সকল অপরাধ ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন দপ্তরে অর্থ লেনদেন করে। জানা যায়, সভাপতি পদে আসীন হওয়ার উদ্দেশ্যে এস এম খলিলুর রহমান সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। এ লক্ষ্যে তিনি বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান, সহ-সভাপতি অধ্যাপক আবু আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক এহছানুল রহমান সম্পর্কে বিভিন্ন ফোরাম ও কর্মচারীদের সামনে অসম্মানজনক মন্তব্য করে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে তুলেছেন। অভিযোগকারীদের মতে, ওই বলয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অযাচিত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এবং বর্তমান নেতৃত্বকে দুর্বল করে প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এস এম খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগের বিষয়ে দুদক অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে দুদকের সহকারী পরিচালক ও অভিযোগটির অনুসন্ধান কর্মকর্তা মুহাম্মদ শিহাব সালাম বলেন, “বর্তমানে গোপন অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধান শেষ হলে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।” বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বার্ক) কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, সেখানে দায়িত্ব পালনকালেও প্রশাসনিক অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে নানা অভিযোগ ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, জাকাত তহবিলের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ ওঠে। এছাড়া ইউনিসেফের অর্থায়নে পরিচালিত কক্সবাজার শিক্ষা প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায় এবং বিপুলসংখ্যক কর্মী চাকরি হারান। একই প্রকল্পে অনিয়মে অভিযুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের পদোন্নতি দেন তিনি। অভিযোগকারীদের দাবি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদের তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়নি। উত্তরা আহ্ছানিয়া মিশন ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য থাকাকালে নিজের মেয়েকে পদোন্নতি এবং আত্মীয়কে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ছাড়াই নিয়োগ দেন তিনি। এছাড়া সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি মানবসম্পদ বিভাগের দায়িত্ব নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে দীর্ঘদিন পরিচালক নিয়োগ না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের অধীনস্থ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষা প্রশাসনে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি জোরপূর্বক এসব দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকেও বিভিন্ন দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত করেছে। নিজের দায়িত্বকালে প্রতিষ্ঠানের ক্রয় ব্যবস্থাপনায় ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে বিভিন্ন কেনাকাটায় অনিয়ম করেন তিনি। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আহ্‌ছানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতাল, উত্তরা-সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্রয়-অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে জনাব এস. এম. খলিলুর রহমান (খলিল) ও জনাব জলিলের নাম উঠে এসেছে। ডিএফইডির একজন কর্মকর্তা জানান সহ-সভাপতি (কর্মসূচি) পদে থাকা সত্ত্বেও খলিল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়ে স্বার্থের সংঘাত ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছেন। তিনি বলেন, কর্মসূচি বিভাগের প্রায় সব সিদ্ধান্তই তার প্রত্যক্ষ নির্দেশনার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় কর্মকর্তাদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ কমেছে, ফলে বিভাগের কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্বাহী কমিটির এক সদস্য অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী ব্যক্তিস্বার্থে সংগঠনের বিভিন্ন পদ ও সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তার দাবি, এ কারণে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

আরও খবর