নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১০:০৫:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন সংস্থা সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ)-এর চেয়ারম্যান ডা. আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। সংস্থাটি বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার অর্থায়নে দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে কাজ করে থাকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নানা অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটি বিতর্কের মুখে পড়েছে।

সুত্রে জানা যায়, শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের মানিককুড়া গ্রামে এসডিএফ পরিচালিত একটি সমিতির মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের নামে ভুয়া ঋণ দেখিয়ে প্রায় ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ১৭০ জন সদস্যের মধ্যে ১৩১ জনের নামে ঋণ দেখানো হলেও বাস্তবে অনেকেই কোনো টাকা পাননি। ভিক্ষুক, দিনমজুর, হতদরিদ্র এমনকি মৃত ব্যক্তির নামেও ঋণ দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, তাদের স্বাক্ষর ছাড়াই সমিতির দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা নিজেরাই টাকা তুলে নিয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় ক্লাস্টার অফিসারসহ সমিতির সভাপতি, সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও আরইএলআই নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু কর্মকর্তা কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন এবং সেই অর্থ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বহুতল ভবন ও জমি কেনায় বিনিয়োগ করেছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কথাও বলা হচ্ছে।
একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন তহবিলের অর্থ ব্যবহার করে কিছু অসাধু কর্মকর্তা কোটিপতি হয়েছেন।
২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অভিযোগ ওঠে যে, ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে ডা. আব্দুল মজিদকে এসডিএফ-এর চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এই নিয়োগের পর গত প্রায় ১৮ মাস ধরে সংস্থার কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমে ভাঙনের কারণে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য নির্ধারিত সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, পুরাতন অভিজ্ঞ কর্মীদের বাদ দিয়ে নতুন জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিষয়টি আদালতে গেলে হাইকোর্ট নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করেন।
এছাড়া কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি পরিশোধ না করেই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার অভিযোগও রয়েছে, যা নিয়মবহির্ভূত বলে দাবি করা হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে কেনাকাটায় অনিয়ম, প্রকল্প ব্যয়ে স্বচ্ছতার অভাব, পুরাতন কর্মীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগতভাবে রচিত বই কিনতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
এছাড়া অতীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকাকালে কিছু প্রতিষ্ঠানের বড় অঙ্কের ঋণ মওকুফের বিষয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানা গেছে।
এসডিএফ-এর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এ অবস্থায় একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকা খতিয়ে দেখা, আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার, ভুক্তভোগীদের দায়মুক্তি নিশ্চিত করা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম ঠেকাতে বিশেষ অডিট ও কাঠামোগত সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে সচেতন মহল।
















