আইন-আদালত

সুন্দরবনে অস্ত্রসহ ‘বড় জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর জলদস্যু আটক

  জিয়াউল ইসলাম জিয়া,বিশেষ প্রতিনিধি ৪ মার্চ ২০২৬ , ২:২১:৫১

সুন্দরবনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টার সময় কুখ্যাত জলদস্যু ‘বড় জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর এক সদস্যকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোরে খুলনার কয়রা ও মোংলা এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ যৌথ অভিযানে তাঁকে আটক করা হয়।
আটক ওই ব্যক্তির নাম আফজাল সরদার (৩২)। তিনি খুলনা জেলার কয়রা থানার বাসিন্দা। কোস্টগার্ডের দাবি, আফজাল দীর্ঘদিন ধরে এই দস্যু বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থেকে ডাকাতি এবং অস্ত্র ও রসদ সরবরাহের কাজ করে আসছিলেন।

কোস্টগার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোলে কোস্টগার্ড সদস্যরা যখন নির্বাচনী দায়িত্বে ব্যস্ত ছিলেন, সেই সুযোগে সুন্দরবনে আবারও দস্যু তৎপরতা শুরু করার চেষ্টা করছিল কিছু অসাধু চক্র। এর পরিপ্রেক্ষিতে বনকে দস্যুমুক্ত রাখতে বিশেষ ‘সাঁড়াশি অভিযান’ শুরু করে বাহিনীটি।
কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোর ৪টায় কোস্টগার্ড বেইস মোংলা, নলিয়ান আউটপোস্ট, কয়রা স্টেশন এবং পুলিশের একটি দল যৌথভাবে কয়রা থানার নারায়ণপুর এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকেই আফজাল সরদারকে আটক করা হয়।
পরে তাঁকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সকাল ১১টার দিকে মোংলা থানার পাশাখালী ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায় কোস্টগার্ড। সেখানে মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় একটি শটগান, একটি একনলা বন্দুক, ২১ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও একটি ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করা হয়।

কোস্টগার্ড জানায়, নির্বাচনের পর সুন্দরবনে যৌথ অভিযান জোরদার হলে আফজাল আতঙ্কিত হয়ে অস্ত্রগুলো বনের ভেতরে লুকিয়ে রেখে লোকালয়ে এসে আত্মগোপন করেছিলেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাঁর বিরুদ্ধে কয়রা ও ডুমুরিয়া থানায় এর আগে আরও ৫টি মামলা রয়েছে।
আটক দস্যু ও উদ্ধার করা অস্ত্রশস্ত্রের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড। সংস্থাটি আরও জানায়, সুন্দরবনকে পুরোপুরি দস্যুমুক্ত না করা পর্যন্ত এ ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আরও খবর