জিয়াউল ইসলাম জিয়া,বিশেষ প্রতিনিধি ৩১ মার্চ ২০২৬ , ১১:২২:০৯
দেশজুড়ে চলমান পেট্রোল সংকটের সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় একটি মুদি দোকানে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। অভিযানে বিপুল পরিমাণ পেট্রোল জব্দ করা হয় এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দোকান মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা ও জব্দকৃত পেট্রোলের বিক্রয়মূল্য সহ ১ লাখ ৭ হাজার ২৯০ টাকা সরকারী কোষাগারে জমা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরের পর উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের নাকতাড়া-কালিবাড়ী বাজারে হাফিজুর রহমানের মুদি দোকানে এ অভিযান পরিচালিত হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এতে অংশ নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে পেট্রোলের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় সংকট তৈরি হয়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে জ্বালানি মজুদ করে অধিক দামে বিক্রি করছে- এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসন মাঠে নামে।
অভিযান চলাকালে দেখা যায়, কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়াই মুদি দোকানে পেট্রোল মজুদ করে প্রতি লিটার ২২০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছিল, যা সরকারি নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক বেশি। এ সময় দোকান থেকে ৪টি ব্যারেলে মোট ৮১০ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জানান, পেট্রোল সংকটকে পুঁজি করে অবৈধ মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমানকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দকৃত পেট্রোল তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় মোটরসাইকেল চালকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, জব্দকৃত পেট্রোল বিক্রি করে মোট ৯৭ হাজার ২৯০ টাকা আদায় করা হয়েছে, যা জরিমানার অর্থসহ মোট ১ লাখ ৭ হাজার ২৯০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সংকটের সময় অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান জনস্বার্থে অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা মনে করছেন, এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হলে অবৈধ মজুদ, কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, চলমান সংকটকালে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মজুদদারি ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের বিরুদ্ধে তাদের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


















