টপ টেন

সাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্তদের সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ক এ্যাডভোকেসি

  জিয়াউল ইসলাম জিয়া,বিশেষ প্রতিনিধি ২৬ নভেম্বর ২০২৫ , ১১:৪৩:১২

সাতক্ষীরা জেলার উপকূলীয় অঞ্চল ঘূর্ণিঝড়, বন্যা এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধির মতো পুনরাবৃত্তিমূলক দুর্যোগের শিকার। এসব বিপর্যয় হাজার হাজার মানুষকে নগর বস্তিতে পাড়ি দিতে বাধ্য করছে, যেখানে তারা নতুন আর্থ- সামাজিক সংকটে পড়ছে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাব ও অনিরাপদ বাসস্থানের কারণে সামাজিক সুরক্ষার আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি এখন একটি দৃশ্যমান বাস্তবতা। এই জনগোষ্ঠীকে জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবি। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলার দাবী সকলের।

সাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ে মিডিয়া এ্যাডভোকেসি কর্মশালায় মূলপ্রবন্ধে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের সহকারি অধ্যাপক ড. মোঃ ইসমাইল হোসেন এসব কথা বলেন।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টায় সোনার বাংলা চাইনিজ হোটেল এন্ড কমিউনিটি সেন্টারের সম্মেলন এ এ্যাডভোকেসি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে মুল বিষয়ের উপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের সহকারি অধ্যাপক ড. মোঃ ইসমাইল হোসেন।

সাতক্ষীরার সিনিয়র সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মিনির সভাপতিত্বে ও প্রকল্পের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর মোঃ ইব্রাহিম হোসেনের পরিচালনায় এ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক সায়েদুর রহমান মৃধা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার, কারিতাস কর্মকর্তা কামাল হোসেন ও মিহির সরকার।

সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঘনঘন ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা হচ্ছে। সম্প্রতি ভূমিকম্পের মাত্রাও বেড়েছে। নদী ভাঙ্গন, জলোচ্ছ্বাসে মানুষ সম্পদ হারাচ্ছেন। গৃহহারা হয়ে বাস্তুচ্যুত হয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এলাকায় পানির লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েক গুণ। সুপেয় খাবার পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার সংকট রয়েছে সাতক্ষীরা -খুলনার উপকুলীয় শ্যামনগর, কালিগঞ্জ, আশাশুনি, কয়রা ও দাকোপ অঞ্চলে। ১৯৮৮ সালের ঘুর্ণিঝড় পরবর্তী বছরগুলোতে প্রায়শই একের পর এক দূর্যোগে এলাকার মানুষজন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। বিশেষ করে আইলা, সিডর, ফণি, বুলবুলের মতো ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে উপকুলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভুক্তভোগী এসব হাজার হাজার মানুষেরা জীবন জীবিকার জন্য দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্থানান্তরিত হয়েছেন।

বক্তারা বলেন, সরকারিভাবে এসমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পূর্নবাসন করতে হবে। জলবায়ু সহিষ্ণু পরিবেশ তৈরিতে সরকারকে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। উপকুলীয় এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, সুপেয় খাবার পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে বসবাসের উপযোগী পরিবেশ তৈরির সবধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে। একই সাথে সাংবাদিকসহ সকল পর্যায়ের মানুষদের পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।

এডভোকেসিতে সাতক্ষীরার সুশীল ও সচেতন মহলের প্রতিনিধিগন অংশ গ্রহণ করেন।

আরও খবর