বিএনপির ফরিদপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও গোপালগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মামলাবাজ ও চাঁদাবাজ সেলিমুজ্জামান সেলিমের বিরুদ্ধে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
রবিবার জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, সেলিমুজ্জামান সেলিম একজন মামলাবাজ, প্রতারক ও চাঁদাবাজ ও দখলবাজ। সে গোপালগঞ্জ-১ আসনে কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষকে মামলার জালে ফাঁসিয়েছে। তার রোষানলে পড়ে ধ্বংস হয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী। তাকে চাঁদা না দেওয়ায় অনেককে দেশ ছাড়া করেছেন। গোপালগঞ্জ-১ আসনে এমন কোনো ব্যবসায়ী নেই যার কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেননি সেলিম।
অভিযোগপত্রে সেলিমুজ্জামান সেলিমের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়, সেগুলো হলো ১. সাবেক অ্যাডিশনাল আইজি মনিরুল ইসলামের অবৈধ সম্পদের রক্ষা করছে সেলিম। মনিরুল ইসলামের সব অবৈধ সম্পদ সেলিমের জিম্মায় রয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপির সব গোপন তথ্য সেলিমুজ্জামান সেলিম পুলিশের সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলামের কাছে ফাঁস করতো। এছাড়া নিজের মতের বাইরে কেউ গেলে সেলিম তাকে মনিরকে দিয়ে গ্রেফতার করাতো। সেলিমুজ্জামান সেলিম মূলত মনিরের সোর্স হিসেবে বিএনপিতে কাজ করতো।
২. শেখ হাসিনার পতনের পর সেলিমুজ্জান সেলিম টাকা পয়সার বিনিময়ে সরকারী অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের পোস্টিংয়ের জন্য তদবির শুরু করেছে। এখানে সে যত্রতত্র তারেক রহমানের নাম বিক্রি করে চলছে। তদবির বাণিজ্য সেলিমের মূল ইনকাম। অনেক সরকারি কর্মকর্তাদের ফোন দিয়ে তাদের পোস্টিং করিয়ে দিবেন বলে আশ্বাস দিয়েছে । দলীয় ফান্ডের কথা বলে অর্থ সম্পদ হাতিয়ে নেন। আবার কেউ যদি তার কোনো তদবীর না শোনেন তাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানী কারে থাকেন।
৩. আওয়ামী লীগের অনেক দাগী আসামির রক্ষার দায়িত্ব নিয়েছেন সেলিম। সরকার পতনের পর তার ঢাকার বাসায় আওয়ামী লীগের অনেক দাগী আসামি আশ্রয় নেয় এবং আওয়ামী লীগের বেশ কিছু অপরাধীদের সে দলে ভেড়াচ্ছেন অর্থের বিনিময়ে।
৪. গোপালগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা দিদার হত্যা মামলা, এনসিপি নেতাদের উপর হামলাসহ কয়েকটি মামলায় প্রায় ২০ হাজার লোককে আসামী করে তাদের থেকে অর্থ সম্পদ হাতিয়ে নিয়ে এবং মূল আসামীকে না ধরিয়ে নিরপরাধ লোকদের হয়রানী েরেছে এই সেলিমুজ্জান সেলিম।
৫. একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসনে সেলিমুজ্জামান সেলিমকে চূড়ান্ত মনোনয়ন না দেয়ায় রাজধানীল গুলশান বিএনপি অফিসের সামনে শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর ও তার ছেলের উপর হামলা করে সেলিমের সন্ত্রাসী বাহিনী। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে গত ৬ বছর মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীরের ছেলে।
৬. রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মানুষের বেদখল ফ্ল্যাট, জমি, বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সন্ত্রাসীদের দিয়ে টাকার বিনিময়ে দখল করে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন সেলিম। তার বিরুদ্ধে পল্টন ও মগবাজারে একাধিক লোকের ফ্ল্যাট, বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাকরাইল মোড়ে বিতর্কিত কথিত জমজম টাওয়ারের কথিত মালিক দাবীদার বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন সেলিমুজ্জামান সেলিমের পার্টনার। এছাড়া একাধিক আবাসিক হোটেল এবং কয়েকটি বার ও ক্লাব সেলিমের নিয়ন্ত্রনে।
৭. একটি সংঘবদ্ধ আদম ব্যবসায়ী চক্র তুলেছে সেলিমুজ্জামান সেলিম। মানব পাচার ও নারী পাচার চক্রের হোতা সেলিম এই ব্যবসা করে রাতারাতি বনে গেছেন ধনী ব্যক্তি।
৮. চোরাই গাড়ির ব্যবসা পরিচালনা হয় সেলিমের নামে। রাজধানীর কাকরাইলে একটি চোরাই গাড়ি বিক্রির প্রতিষ্ঠার সেলিমের নামে চলে।
৯. নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না হয়েও পুলিশ প্রোটকলে গোপালগঞ্জে চলাফেরা করেন সেলিম। কাশিয়ানী-মুকসুদপুরের ইউএনও-ওসিকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার হুমকি দিয়ে তার গ্রামের বাড়িতে বসিয়ে রাখেন। গোপালগঞ্জের ডিসি- এসপিকে অন্যায় আবদার পূরণে বাধ্য করেন। নিজেকে ভবিষ্যৎ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী দাবি করে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনে প্রশাসনকে ব্যবহার করে যাচ্ছেন।
১০. বৃহত্তর ফরিদপুরে বাস-গাড়ি থেকে চাঁদা আদায়, খাস জমি দখল, বাজার থেকে চাঁদা উত্তোলন, ঢাকা-খুলনা বিশ্বরোডের বিভিন্ন এলাকায় তার কর্মীদের দিয়ে অবৈধভাবে দোকান বসিয়েছেন সেলিম। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ কাশিয়ানী-মুকসুদপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুরের মানুষ।
১১. সেলিমুজ্জামান সেলিম গোপালগঞ্জে চিহ্নিত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারীদের বিএনপিতে যোগদান করিয়ে দলকে কলুষিত করছে। তার গাড়িতে যারা প্রটোকল দেয় সবাই মাদকসেবী ও কারবারী হিসেবে পরিচিত।
১২. গোপালগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সভাপতি সহিদুল ইসলাম লেলিনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সাবেক পিএস গাজী হাফিজুর রহমান লিকু ও তার পরিবারের সকলের বিভিন্ন মামলায় জমিনের ব্যবস্থা করাসহ অব্যহতি পেতে বিশাল অংকের লেনদেন হওয়ায় দুদকের অনুসন্ধান থেকে শুরু করে তাদের সকল কিছু থেকে রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছে। সেলিমুজ্জামান সেলিম।
১৩. সেলিমুজ্জামান সেলিম ও তার পরিবার প্রতিনিয়ত মুকসুদপুর-কাশিয়ানী থানায় দালালি করে এলাকার অপরাধীদের ধরে এনে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে।
১৪. আওয়ামীলীগ বিএনপি জামায়াত অন্য যে দলেরই হোক না কেন! সেলিমুজ্জান সেলিমকে যে টাকা দিবে গোপালগঞ্জের পুলিশ প্রসাশনকে তার পক্ষেই কথা বলবে এবং সেও তার পরিবার বর্তমানে এলাকায় কারও মধ্যে বিরোধ থাকলে তারা একপক্ষের থেকে টাকা খেয়ে অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে বিচার শালিস করছে। এতে করে এলাকার মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
১৫. সেলিমুজ্জামান সেলিম নিজেকে তারেক রহমানের ক্যাশিয়ার দাবি করে মুকসুদপুরের দাসের হাটের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩ কোটি টাকা নিয়েছে।
১৬. সেবা গ্রীন লাইনের মালিক কে এম মাসুদুর রহমান মাসুদের কাছ থেকে ২৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে সেলিমুজ্জামান সেলিম সেবা গ্রিন লাইন ও সিএজি- ফিলিং স্টেশন (পেট্রোল পাম্প) এর উন্নয়ন কাজ বন্ধ রেখেছে সেলিমুজ্জামান সেলিম।
১৭. সেলিমুজ্জামান সেলিম তার স্ত্রী সাবরিনা শুভ্রাকে আওয়ামী লীগের মিডিয়া দৈনিক জনকণ্ঠ করেছে। বর্তমানে সেলিমের স্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে গণমাধ্যমটি।
১৮. ৫ আগষ্ট পট পরিবর্তনের পরেই গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী মুকসেদপুরের বেশ কিছু হাট-বাজার, বাস স্টান্ড, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখলে নেয় সেলিমুজ্জামান সেলিম ও আত্নীয় স্বজনেরা, সেলিমুজ্জামান সেলিম কাশিয়ানী এম এ খালেক ডিগ্রী কলেজসহ কয়েকটি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি এবং তার স্ত্রী সাবরিনা বিনতে অহম্মদ জয়নগর ইয়ার আলী খান ডিগ্রী কলেজের সভাপতির পদ দখল করেছেন।