জিয়াউল ইসলাম জিয়া,বিশেষ প্রতিনিধি ১৮ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:০৩:৩৮
ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও পাচার প্রতিরোধে এবং আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শনিবার (১৮ এপ্রিল) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক কাজী আশিকুর রহমান। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যশোর রিজিয়নের প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে প্রতিদিন ৪৬৪টি টহল পরিচালনার মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ২টি সেক্টরের অধীনে ৭টি ইউনিট ও ১১৬টি বিওপি’র মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও পাচার ঠেকাতে বেনাপোল স্থলবন্দর, ভোমরা স্থলবন্দর ও দর্শনা স্থলবন্দর এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩টি বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী ২২টি তেল পাম্পে নিয়মিত নজরদারি ও বিশেষ চেকিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া সম্ভাব্য চোরাচালান রুট চিহ্নিত করে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৬৮১টি টহল এবং ৯৮৪টি বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়েছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৯৭৬টি সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। টাস্কফোর্সের মাধ্যমে ৪৩টি অভিযানে অবৈধভাবে মজুদকৃত তেল জব্দসহ ৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- এবং কয়েকজন ব্যবসায়ীকে মোট ৬২ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ৬৭টি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার রোধেও বিজিবি নজরদারি বাড়িয়েছে। অতিরিক্ত টহল, চেকপোস্ট স্থাপন এবং সন্দেহভাজন চলাচল পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, চলতি ২০২৬ সালে যশোর রিজিয়নে ৯৬ জন আসামিসহ প্রায় ৬২ কোটি ৬৫ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১.৯০ কেজির বেশি স্বর্ণ, হিরক, রৌপ্য, ৪২টি অস্ত্র ও ১৫২ রাউন্ড গুলি রয়েছে। ২০২৫ সালে ৪২০ জন আসামিসহ প্রায় ৩৭৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকার পণ্য জব্দ করা হয়। অন্যদিকে, মাদকবিরোধী অভিযানে ২০২৬ সালে প্রায় ২২ কোটি ৯০ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে মদ, ক্রিস্টাল মেথ, গাঁজা, ইয়াবা ও ফেন্সিডিল উল্লেখযোগ্য। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বলেন, “সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্কতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।” বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে নিরাপত্তা ও আস্থা নিশ্চিত করতে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।


















