
সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় অবস্থিত তুবা পাইপ অ্যান্ড ফিটিং ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মীর শাহীন হোসেন চাঁদা দাবি, হুমকি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে কাপাসডাঙ্গায় নিজ প্রতিষ্ঠানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। মীর শাহীন বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, যার উদ্দেশ্য তাঁর ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন করা। তিনি অভিযোগ করেন, পাটকেলঘাটা থানার কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের তুব্বাত সরদারের ছেলে আল আমিন সরদার (৩৪) তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আল আমিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনিবন্ধিত ভুঁইফোড় অনলাইন পোর্টালে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে শুরু করেন। তিনি আরও বলেন, আমি একজন ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান। ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে এই পাইপ কারখানা প্রতিষ্ঠা করেছি এবং দীর্ঘদিন ধরে এ পেশার সঙ্গে যুক্ত আছি। আমি কয়েকবার জেলার সেরা করদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি এবং জাতীয় পর্যায়েও পুরস্কার পেয়েছি। এছাড়া জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যুৎ গ্রাহক হিসেবেও স্বীকৃতি অর্জন করেছি। মীর শাহীন দাবি করেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাঁর ব্যবসায়িক ক্ষতি করার লক্ষ্যে আল আমিনকে ব্যবহার করে তাঁর সম্মানহানি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি আল আমিনকে ‘চিহ্নিত নেশাগ্রস্ত ও চাঁদাবাজ’ উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাঁকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি জানান, আল আমিন বিভিন্ন সময় ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর (০১৭৭১-৭৫২৩৬১৩ ও ০১০০৮-৪৮২৯৭৪) থেকে তাঁর ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কল ও মেসেজ করে হুমকি প্রদান, গালিগালাজ এবং মিথ্যা তথ্য প্রচারের ভয়ভীতি দেখান। এমনকি খুন-জখমের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে মীর শাহীন বলেন, আল আমিন যেকোনো সময় আমার বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। উল্লেখ্য, এ ঘটনায় তিনি গত ৬ এপ্রিল পাটকেলঘাটা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-২৩৪) করেছেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে ফোনে ও অনলাইনে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুৎসা রটানোর চেষ্টা করছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয়রা জানান, মীর শাহীন দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন এবং তাঁর প্রতিষ্ঠানে প্রায় এক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন