নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১২:২০:১৮
সামাজিক ঐক্য ও মানবতা প্রতিষ্ঠায় উপমহাদেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা সংস্কারক খানবাহাদুর আহছানউল্লা (র.)–এর সার্বজনীন ভ্রাতৃত্ববাদের দর্শন চর্চার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বক্তারা। শনিবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে তাঁর বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনারে এ আহ্বান আসে। “গ্লোবাল ফ্র্যাটারনিটি” শিরোনামের এই সেমিনারে দেশ-বিদেশের গবেষক, শিক্ষাবিদ ও মানবাধিকারকর্মীরা অংশ নেন। আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি প্রফেসর ড. গোলাম রহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাইম ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. কাজী দীন মোহাম্মদ খসরু বলেন, ‘খানবাহাদুর আহছানউল্লা (র.)–এর লেখনী ও মানবিক চিন্তা মানুষের মধ্যে ঘৃণা পরিহার, বৈষম্য বর্জন এবং সীমা-পার মানসিকতা তৈরিতে অনন্য ভূমিকা রেখেছে।’ তিনি আরও বলেন, মানবকল্যাণে তাঁর আজীবন নিবেদনই আজকের এই সেমিনারের মূল প্রেরণা।

সেমিনারে বক্তব্য দেন ড্যাম ক্লাব ২৫–এর উপদেষ্টা ড. কাজী এহসানুর রহমান, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের ভিজিটিং রিসার্চ ফেলো খন্দকার সাখাওয়াত আলী, পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব লিভিং অ্যান্ড লার্নিংয়ের রিসার্চ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড এনগেজমেন্টের পরিচালক ড. নূর উল জামান রফিক এবং জাতিসংঘ অ্যাসোসিয়েশন ফিজির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আকমল আলী। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আহছানউল্লা সেন্টার ফর ইউনিভার্সাল হিউম্যানিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল মাসুদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন রাখি গাঙ্গুলি।
বক্তারা বলেন, অন্যকে সেবা করার আনন্দ ও মানবকল্যাণে নিবেদন—এ দুটি ধারণাকেই জীবনের ভিত্তি হিসেবে দেখতেন খানবাহাদুর আহছানউল্লা (র.)। সুফিবাদ ও কোরআনের করুণাভিত্তিক শিক্ষার সঙ্গে তাঁর এই দর্শন সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। ভালোবাসা, পবিত্রতা ও বিশ্বশান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তাঁরা। অনলাইনের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবতাবাদী পেশাজীবী ও সমাজকর্মীরা যুক্ত হন সেমিনারে। আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারীদের সুবিধার্থে সেমিনারের ভাষা ইংরেজি রাখা হয়। এতে ওপেন ডিসকাশন, প্রশ্নোত্তর এবং অংশগ্রহণকারীদের মতামত উপস্থাপনের সুযোগ ছিল।
বক্তারা জানান, বৈশ্বিক ভ্রাতৃত্বের ধারণা থেকেই ১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আহ্ছানিয়া মিশন। মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক শান্তি ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নের ওপর ভিত্তি করে সংগঠনটি তার যাত্রা শুরু করে। সেমিনারে সর্বজনীন শান্তি ও সৌহার্দ্যের দৃষ্টিকোণ থেকেও আহছানউল্লার ‘গ্লোবাল ফ্র্যাটারনিটি’ দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরা হয়।

















