জিয়াউল ইসলাম জিয়া,বিশেষ প্রতিনিধি ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১০:০৬:২৩
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো একক আতঙ্কের নাম হিসেবে সমালোচিত মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী যুবলীগ নেতা সোহরাব সরদার। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী সরকারের পতন ঘটলেও, এলাকাবাসীর অভিযোগ- সোহরাব আবারও এলাকায় ফিরে নানা অপতৎপরতা চালানোর চেষ্টা করছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আগরদাঁড়ী ইউনিয়নের নারায়ণজোল গ্রামের বাসিন্দা সোহরাব সরদার দীর্ঘদিন ধরে দালালি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। স্থানীয়দের দাবি, কাশেমপুর গ্রামের বুনো কবিরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে অপরাধজগতে তার উত্থান ঘটে।
এলাকাবাসীর ভাষ্যে, ২০১৩ সালের পর সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন- আগরদাঁড়ী, হরিশপুর, নারায়ণজোল, চুপড়িয়া, বৈকারী, বাঁশদহা, কুশখালী ও সাতানীসহ আশপাশের এলাকায় শত শত নিরীহ মানুষকে ‘জামায়াত-শিবির’ তকমা দিয়ে নাশকতার মামলার ভয় দেখিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন সোহরাব ও তার সহযোগীরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তৎকালীন সদর থানার কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে রাতের আঁধারে বিত্তশালীদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আটক ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে লাখ লাখ টাকা আদায় করা হতো। সোহরাব পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত থাকায় তার বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ থাকলেও মামলা গ্রহণ করা হতো না। তাছাড়া ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া, বিরোধী প্রার্থীকে গালিগালাজ এবং ধলবাড়িয়া কেন্দ্রে সাধারণ মানুষের ওপর হামলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও সম্প্রতি আবার এলাকায় সক্রিয় হওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মানুষের মধ্যে নানান সমালোচনা শুরু হয়।
স্থানীয়দের দাবি, আগরদাঁড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনারুল চেয়ারম্যান হত্যাকাণ্ডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছিলেন সোহরাব। এছাড়া জমি দখল, ডাকাতি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
আগরদাঁড়ী ইউনিয়নের এক জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সোহরাবের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও এলাকায় ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন ছিল। মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুলিশকে ব্যবহার করে মানুষ হয়রানি করা ছিল তার নিত্যদিনের কাজ।
সাতানী এলাকার মনিরুল ইসলাম বলেন, আমাকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। পরে কয়েক লাখ টাকা দিয়ে জীবন বাঁচাতে হয়েছে।
নারায়ণজোল গ্রামের সবুর সরদার বলেন, তার ভয়ে রাতে গ্রামের কোন পুরুষ মানুষ ঘরে থাকতে পারত না। গরু বিক্রি করলেই পুলিশ নিয়ে হাজির হতো সোহরাব। সম্প্রতি আবার সে ‘পুলিশ-খেলা’ শুরু করেছে।
সোহরাব সরদারের কর্মকাণ্ডে এখনো সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে। অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।


















