আইন-আদালত

অবৈধ ইটভাটা ও মাটি কাটায় খুলনা–সাতক্ষীরার নদী ও কৃষিজমি সংকটে

  জিয়াউল ইসলাম জিয়া,বিশেষ প্রতিনিধি ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ , ৯:১৩:১২

অবৈধ ইটভাটা ও নির্বিচারে মাটি কাটার কারণে খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় নদী ও কৃষিজমি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে কপোতাক্ষ নদসহ একাধিক স্থানে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি উৎপাদন ও জনস্বাস্থ্য—যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে পরিবেশ ও খাদ্য নিরাপত্তায়।

সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়ন এবং খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বোয়ালিয়া ব্রিজ সংলগ্ন কপোতাক্ষ নদের অংশে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে নদী ও কৃষিজমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদীর চর ও পার্শ্ববর্তী কৃষিজমিতে অনুমোদন ছাড়াই এসবি ও এমবিএস নামের একাধিক ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে।

নদীর তলদেশ ও পাড় কেটে মাটি অপসারণের ফলে কপোতাক্ষ নদের নাব্যতা কমে যাচ্ছে। অনেক স্থানে চর জেগে উঠছে, ফলে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এভাবে মাটি কাটা চলতে থাকলে নদীটি স্থায়ীভাবে সংকুচিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে কৃষিজমির উপরিভাগ কেটে নেওয়ায় স্থানীয় কৃষকেরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাটি কাটার কারণে অনেক জমিতে এখন আর ধান বা সবজি চাষ করা যাচ্ছে না। বর্ষা মৌসুমে এসব জমিতে পানি জমে থাকে, আর শুষ্ক মৌসুমে জমি অনুর্বর হয়ে পড়ছে। এতে কৃষিনির্ভর বহু পরিবার জীবিকাসংকটে পড়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বোয়ালিয়া ব্রিজের কাছাকাছি অবৈধ ইটভাটা ও ভারী যন্ত্রপাতির ব্যবহার ব্রিজটির নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিনিয়ত ভারী যান চলাচল ও বেকু মেশিনের কম্পনে সেতুর স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এছাড়া ইটভাটার আশপাশে কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ধোঁয়া ও ছাইয়ের সংস্পর্শে আসছে। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন এ ধরনের দূষিত পরিবেশে থাকলে শিশুদের শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

পরিবেশ ও নদী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদী থেকে মাটি কাটা এবং কৃষিজমিতে ইটভাটা স্থাপন পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও ইটভাটা (নিয়ন্ত্রণ) আইনের পরিপন্থী। আইন কার্যকর না হলে এর প্রভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।

এ বিষয়ে এসবি ইটভাটার মালিক ডালিম সরদার ও এমবিএস ইটভাটার মালিক মিনারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ এবং ইটভাটাগুলো উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে নদী, কৃষিজমি ও জননিরাপত্তা—সবই আরও বড় সংকটের মুখে পড়বে।

আরও খবর